কলকাতা নাইট রাইডার্সের সিইও ভেঙ্কি মায়শোর ২০১২ সালের অকশনের আগে তৎকালীন অধিনায়ক গম্ভীরকে ফোন করেন। তাঁকে জানতে চান, অকশনে কার কার জন্য ঝাঁপানো উচিত। তখন গোতি বলেছিলেন, যে করেই হোক, তাঁর টিমে নারিনকে চাইই চাই!
সেদিনের সেই কথপোকথন –
ভেঙ্কি : কাল তো অকশন। তোমার কি মনে হয়, কার কার জন্য আমাদের হাত বাড়ানো উচিত?
গম্ভীর : সুনীল নারিনকে চাই।
ভেঙ্কি : এ আবার কে?
গম্ভীর : শুধু নামটা মনে রাখো, আর কিছু মনে রাখার দরকার নেই। ওর কথা মাথায় রেখো কিন্তু।
গোতির পরামর্শে সন্তুষ্ট হতে না পেরে ভেঙ্কি সেই সময় দলের অন্যতম কর্ণধার শাহরুখের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব কথা বলেন। শাহরুখ তখন নিজেই ফোন করেন গম্ভীরকে। দলের অধিনায়ক তখন শপিং মলে স্ত্রী নাতাশাকে নিয়ে শপিং করছিলেন। সেবছর দল গড়ার জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ ছিল দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় এর মূল্য তেরো কোটি। শাহরুখ বারবার জিজ্ঞাসা করার পর গোতি তাঁকে বলেন, দরকার পড়লে তেরো কোটি খরচ করে নারিনকে টিমে আনতে হবে। অন্য কাউকে দলে চাই না, নারিনকে চাইই চাই…
শাহরুখ-গম্ভীর কথপোকথন –
শাহরুখ : অন্য কাউকে নিলে হয় না? তুমি বলছ, নারিনকে দলে আনতেই হবে?
গম্ভীর : বাজেট কতো আমাদের? কতো খরচ করা যাবে?
শাহরুখ : দুই মিলিয়ন। কিন্তু, ও কে? তুমি নিশ্চিত যে ওকেই চাই?
গম্ভীর : হ্যাঁ! যদি দুই মিলিয়ন সর্বোচ্চ খরচের সীমা হয়, তাহলে ওই দুই মিলিয়ন খরচ করেই আনতে হবে। আমাদের আর কাউকে দরকার নেই।
শাহরুখ : তোমার যদি ওকেই দরকার হয়, তাহলে ওকেই আনা হবে।
আইপিএল মঞ্চে প্রথমবার নাম লেখানো নারিনের বেস প্রাইস ছিল পঞ্চাশ হাজার মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় মূল্য তেত্রিশ লক্ষ। অকশনে দরাদরির পর নারিন যখন কেকেআর-অর হাতে ওঠেন, তখন তাঁর দাম আইপিএলে সাত লক্ষ মার্কিন ডলার। সেই নারিন আজ সাত মরশুমের অভিজ্ঞ তারকা আইপিএলে। দলের অন্যতম আশা-ভরসা।
নারিনকে দলে আনার ব্যাপারে গোতি একবার একটি মন্তব্য করেছিলেন সংবাদমাধ্যমে –
”ও দলে আসার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে মাত্র একটা ম্যাচ খেলেছিল। তাই আমার মনে হয়, শাহরুখ বা ভেঙ্কি ওর নাম জানত না। আর ও (নারিন) নিজেও অবাক হয়েছিল, যখন ও জানতে পারে যে আমরা ওকে দলে এনেছি।”
সিটি২৪নিউজের ফেসবুক পেজে লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন