হঠাৎ করেই গতকাল সকালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) হাজির কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের ১০-১২ জন ক্রিকেটার। সবাই যাচ্ছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজনের সঙ্গে দেখা করতে। কারণ, ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ আসর গত ৫ই এপ্রিল শেষ হলেও তারা পাননি পারিশ্রমিকের শতভাগ। তাদের অভিযোগ, টালবাহানা করছেন কলাবাগানের কর্মকর্তারা। এমনকি দল রেলিগেশনে যাওয়াতে তাদের ১৫ শতাংশ টাকাও কেটে নেয়া হবে বলে নোটিশ দেয়া হয়েছে।ক্রিকেটারদের দাবি এখনো ৫০ শতাংশ টাকা পাওনা রয়েছে তাদের।শুধু তাই নয় চারজন ক্রিকেটার পাননি একটি টাকাও। এর মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ আশরাফুল। যিনি কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে এবারের লীগে হাঁকিয়েছেন রেকর্ড ৫টি সেঞ্চুরি। গতকাল আশরাফুল দৈনিক মানবজমিনকে বলেন, ‘আমি একটি টাকাও পাইনি এখন পর্যন্ত। তারা আমাকে বলেছেন আগামীকাল (আজ) আমার পাওনা টাকা দিয়ে দেবেন। আমি এজন্য সবার সঙ্গে আসিনি। কিন্তু আমি জানি বেশির ভাগ ক্রিকেটাররাই ৫০ শতাংশ টাকা পাওনা রয়েছে। আমি এখন আমার পাওনার অপেক্ষাতে আছি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিয়ম অনুসারে সুপার লীগ শুরুর আগেই ক্রিকেটারদের ৭৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করার কথা। এরপর লীগ শেষ হলে তার এক মাসের মধ্যে বাকি ২৫ ভাগ দেয়ার কথা। সেই সময়ও অতিক্রম হয়েছে। কিন্তু কলাবাগানের ক্রিকেটাররা ক্লাবটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করতে পারেননি। এ বিষয়ে দলটির পেসার মুক্তার আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে শুরু থেকেই পারিশ্রমিক নিয়ে টালবাহানা করছে ক্লাবের কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ ক্রিকেটারেরই পাওনা আছে ৫০ শতাংশ টাকা।
একেতো প্লেয়ার বাই চয়েজে অনেক কম টাকাতে খেলতে হচ্ছে। তার উপর তারা দল রেলিগেশনে নেমে যাওয়াতে প্রত্যেকের ১৫ শতাংশ টাকা কেটে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। আমরা এর আগে বিসিবিকে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। আজ এসেছি সিইওর সঙ্গে দেখা করতে। কারণ আমরা যখন চুক্তি করি কোথাও লেখা ছিল না যে খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য টাকা কাটা যাবে। তাহলে ভালো পারফরম্যান্স করলে কি তারা আমাদের বেশি টাকা দিতো!
আশরাফুল ভাই একটি টাকাও পায়নি। তিনি তো পাঁচটি সেঞ্চুরি করেছেন। তাহলে কি তাকে ক্লাব থেকে টাকা বেশি দেয়া হবে?’ একই অভিযোগ করেন আরেক ক্রিকেটার রাহাতুল ফেরদৌসও। গতকাল বিসিবির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন তাসামুল হক।কলাবাগানের হয়ে খেলা এ ক্রিকেটার বলেন, ‘আমরা সিইওর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন আমরা যে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম এরপর বিসিবি থেকে ক্লাবকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। ক্লাবও তাদের একটি উত্তর পাঠিয়েছে। এখন বিসিবি তাদের চিঠির জবাব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে। আর ম্যাচ চলার সময় ক্লাবের কর্মকর্তারা একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছিল আমাদের। সেখানে লেখা ছিল খারাপ পারফরম্যান্স করলে আমাদের ১৫ শতাংশ টাকা কেটে নেয়া হবে।
আমাদের কাছে স্বাক্ষর নিয়েছে সেই কাগজে। তখন বলেছিল এটি কোনো কিছু নয়, পারফরম্যান্স বাড়াতে একটি নোটিশ। আমরা যে সেটি পেয়েছি তার জন্য স্বাক্ষর করতে হবে। কিন্তু পরে তারা বলেছে অন্য কথা। বিসিবির নিয়মের কোথাও নেই টাকা কাটার বিষয়টি।’ এ বিষয়ে কলাবাগানের কোনো কর্মকর্তাকেই মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষের কথাই শুনেছি। অবশ্যই ক্রিকেটাররা আমাদের কাছে সবার আগে। তেমনি প্রিমিয়ার লীগে খেলা ক্লাবগুলোও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যে কারণে আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান করবো।-মানবজমিন
সিটি২৪নিউজের ফেসবুক পেজে লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন