২০০৯ সালের আইপিএলে মাশরাফিকে নিয়ে রীতিমতো টানা-হেঁচড়া করেছিলেন বলিউডের দুই নায়িকা। জুহি চাওলা ও প্রীতি জিন্তা।
ভারতের তারকা ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে আগে থেকেই মাশরাফির দারুণ বন্ধুত্ব। সেই সময়ে পঞ্জাবেরও অধিনায়ক ছিলেন যুবি। বাঁহাতি যুবরাজ তার মালিত প্রীতিকে আগেভাগেই বলে রেখেছিলেন, যে কোনো মূল্যে মাশরাফিকে তার দলে প্রয়োজন।
২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতকে একার হাতে শেষ করে দিয়েছিলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। আইপিএলে তাকে দলে পাওয়ার জন্য টার্গেট করেছিলেন ‘কিং খান’ শাহরুখ খানের দলও।
যে কোনো মূল্যে মাশরাফিকে পেতে চেয়েছিল কলকাতা নাইটরাইডার্স। প্রীতি-জুহির দড়ি টানাটানিতে হু হু করে দাম বাড়ে মাশরাফির। শেষমেশ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি টাকায় (ছ’ লাখ ডলার) তাকে কিনে নেন জুহি চাওলা।
নিলামে মাশরাফিকে নিয়ে যেরকম জাঁকজমক হয়েছিল, তার আইপিএল অভিষেক সে রকম জমজমাট হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রবাসী আইপিএল-এ মাশরাফি খেলুন, এমনটা সেই সময়ে অনেকেই চাননি। মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে সেবারের আইপিএলে নেতৃত্ব সঁপে দেয়া হয়েছিল ব্রেন্ডন ম্যাককালামের কাঁধে।
একের পর এক ম্যাচ যায়, মাশরাফির আর আইপিএল অভিষেক হয় না! মাশরাফিকে না-খেলিয়ে বুকানন মাঠে নামাতে থাকেন মোজেস হেনরিকুইসকে। কেকেআর-এর অন্দরমহলেও অস্বস্তি ছিল। কেকেআরের কর্তাব্যক্তিরা চেয়েছিলেন মাশরাফি মাঠে নামুন। বুকাননের একরোখা মানসিকতার জন্য তা সম্ভব হয়নি।
আইপিএলের দ্বিতীয় আসরে কলকতার হয়ে অংশ নিয়েছিলেন ম্যাশ।
অবশেষে মাশরাফির অভিষেক হয় ১৬ মে জোহানেসবার্গে। প্রতিপক্ষ ছিল ডেকান চার্জার্স। ডেকানকে ১৬১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল কেকেআর। নিজের প্রথম ওভারেই মাশরাফি দেন ১৫ রান। এর পর দু’ ওভার মোটামুটি ভালই বল করেন।
৩ ওভারে ৩৩ রান দেওয়া মাশরাফির কাঁধে বর্তায় শেষ ওভারের দায়িত্ব। ডেকানের জেতার জন্য দরকার ছিল ৬ বলে ২১ রান। মাশরাফির ৪ বল থেকেই ওই রান তুলে ডেকানকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন রোহিত শর্মা। এক ম্যাচ খেলেই শেষ হয়ে যায় মাশরাফির আইপিএল অধ্যায়।
খেলে যে টাকা পেয়েছিলেন মাশরাফি, তা কাজেও লাগিয়েছেন। ঘনিষ্ঠ আড্ডায় কথা উঠলেই মাশরাফি কৃতজ্ঞতার সঙ্গেই বলেন, মিরপুরের ছ’ তলা বাড়িটা কেকেআরের টাকাতেই তৈরি করা। ৭ এপ্রিল মুম্বাইয়ে শুরু হবে একাদশতম আইপিএল। তার আগে বেঙ্গালুরুতে হবে নিলাম।
এই নিলামের ‘মার্কুই’ ক্যাটেগরিতে রয়েছেন সাকিব। ১৬ জন তারকা ক্রিকেটারকে নিয়ে এই ক্যাটাগরি করা হয়েছে। যেখানে সবার ‘বেস-প্রাইস’ ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা। সাম্প্রতিককালে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন সাকিব। ধরেই নেয়া হচ্ছে, নিলামে সাকিবকে নিয়ে আলোড়ন তৈরি হবে। আর সেরকম হলে টাকার অঙ্কে তিনি কি মাশরাফির ৪ কোটি ছাপিয়ে যাবেন?
এমটিনিউজ২৪.কম/টিটি/পিএস
সিটি২৪নিউজের ফেসবুক পেজে লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন