মহান আল্লাহপাকের অপার কৃপায় আমরা পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দশক অর্থাৎ মাগফিরাতের দশকের রোজা অতিবাহিত করছি। এ দশকের গুরুত্ব অত্যাধিক।
প্রথম দশকে আল্লাহ রহমতের ধারা বর্ষণ করেন বান্দার উপর। রহমত লাভে বান্দা যখন নিজেকে আল্লাহমুখী করে, বিনয়-নম্রতা লাভ করে তখনই কেবল আল্লাহর দরবারে স্বাচ্ছন্দে উৎফুল্ল হৃদয় নিয়ে মাগফেরাত কামনা করতে পারে। তাইতো আল্লাহ রোজা ফরজ করার সময়ই বলেছেন –
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমনি তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)
নিজেকে পরির্বতন করার এবং পাপ ক্ষমার সর্বোত্তম মাস হলো রমজান। রমজানের দিনগুলোতে আমরা যদি একান্তই আল্লাহর জন্য রোজা রাখি এবং নিজের দোষ-ক্রটির ক্ষমা চাই, তাহলে তিনি ক্ষমা করবেন, শুধু ক্ষমাই করবেন না বরং আমাদের পূর্বেকার সকল পাপও ক্ষমা করবেন বলে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছেন।
হজরত আবু সাঈদ খুদার (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে তখন তার পূর্বেকার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সমস্ত দিন চলতে থাকে এবং প্রতি দিন তার জন্য সত্তর হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাবার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে’ (কানযুল উম্মাল, কিতাবুস সওম)।
একবার মহানবী (সা.) বলেন, ‘ফেরেশতা রোজাদারের জন্য দিন-রাত এস্তেগফার করতে থাকে’ (মাজমাউজ যাওয়ায়েদ)। এছাড়া হাদিসে এ বিষয়ে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত আব্দুর রহমান বিন আওফ (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইমানের সাথে সোয়াব এবং এখলাসের সাথে ইবাদত করে সে নিজ গুনাহ থেকে এভাবে পবিত্র হয়ে যায় যেভাবে সেদিন সে তার মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম লাভ করেছিল’ (সুনানে নিশাই, কিতাবুস সওম)।
পরিশেষে এই দোয়াই করি, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন পবিত্র এই রমজানের মাধ্যমে আমাদের সকলের পাপ ক্ষমা করে দেন এবং আমরা যেন বছরের অন্যান্য দিনও আল্লাহপাকের ইবাদত আর তারই স্মরণে অতিবাহিত করতে পারি। আমিন।
সিটি২৪নিউজের ফেসবুক পেজে লাইক দিন
আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন